রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

গ্যাসের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ

দেশে পেট্রোবাংলার পাইকারি গ্যাসের মূল্য ৩৩ শতাংশের বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি কমিটি। সোমবার রাজধানীর বিয়াম অডিটরিয়ামে গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের গণশুনানিতে কারিগরি কমিটি এই সুপারিশ করে।

অবশ্য গণশুনানিতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাত্র ৩ শতাংশ গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে যা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হিসেবে পরিচিত। মাত্র ৩ শতাংশ আমদানি করা এলএনজির কারণে পেট্রোবাংলা মোট গ্যাসের দাম ১১৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে যা অবিশ্বাস্য ও অগ্রহণযোগ্য। তারা এই মুহূর্তে গ্যাসের দাম না বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর মূলত মার্জিন বৃদ্ধি করা হয়। এ জন্য পাইকারি গ্যাসের মূল্য ও গ্যাসের সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) এর সঞ্চালন মাশুলের পর বিতরণ কোম্পানির একটি মার্জিন ঠিক করা হয়। পাইকারি গ্যাসের মূল্য, জিটিসিএলের সঞ্চালন মাশুল ও বিতরণ কোম্পানির মার্জিন মিলে ভোক্তা পর্যায় গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

কারিগরি কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি ঘন মিটার গ্যাসে ৩ টাকা ১১ পয়সা বাড়লে প্রতি ঘন মিটার পাইকারি গ্যাসের দাম হবে ১২ টাকা ৪৭ পয়সা। এখন প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ৯ টাকা ৩৬ পয়সায়।

পেট্রোবাংলার দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের পক্ষে গণশুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী আলী মো. আল-মামুনের নেতৃত্বে একটি দল অংশ নেয়।

এর আগে ২০১৯ সালে সর্বশেষ দাম বাড়িয়ে গ্যাসের পাইকারি দর প্রতি ঘনমিটার ১২.৬০ টাকা করা হয়। এর মধ্যে ইউনিটপ্রতি ভর্তুকি দিয়ে ৯.৩৬ টাকায় বিক্রির নির্দেশ দেয় বিইআরসি। পেট্রোবাংলা বলছে, চলতি বছরে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের সরবরাহ ব্যয় দাঁড়াবে ১৫.৩০ টাকা। এ জন্য ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২০.৩৫ টাকা করার দাবি করেছে পেট্রোবাংলা। তবে কারিগরি কমিটি পেট্রোবাংলার তথ্যের সঙ্গে একমত হতে পারছে না। তারা মনে করছে প্রতি ঘনমিটার মিশ্রিত গ্যাসের সরবরাহ ব্যয় দাঁড়াবে ১২.৪৭ টাকা।

কারিগরি কমিটি তাদের রিপোর্টে দেখিয়েছে স্পট মার্কেট থেকে দৈনিক ৯৯.৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। যা মোট গ্যাসের মধ্যে প্রায় ৩ শতাংশের মতো। বিদায়ী অর্থবছরে গ্যাসের মিশ্রিত ব্যয় ২.৪০ টাকা কমে ১০.১২ টাকায় নেমে এসেছে।

গণশুনানিতে কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী, বজলুর রহমান ও মোহাম্মদ আবু ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, ‘দাম বাড়ানোর প্রস্তাব যারা করেছে তাদের কাছে যে তথ্য চেয়েছিলাম তার কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। এমন অবস্থায় গণশুনানিতে অংশ নেওয়া কোনো অর্থ বহন করে না। তাদের তথ্য না দেওয়ার কি মিনিং থাকতে পারে?’

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com